উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এবং মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী ও রূপায়ণ গ্রুপের আর্থিক সহযোগিতায় এ নৌকাবাইচ ও মেলার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা।
রোববার দুপুর ২টায় বেলুন ও শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। পরে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা মোট ১১টি নৌকা অংশ নেয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নৌকাবাইচকে ঘিরে কয়েক দিন আগে থেকেই পোস্টার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। ফলে প্রতিযোগিতার দিন সকাল থেকেই মধুমতী নদীর তীরে মানুষের ঢল নামে। নদীর দুই পাড় পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মহম্মদপুরের গ্রামগুলোতে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি বাড়ি। বাড়িতে বাড়িতে চলে নানা ধরনের খাবার, পিঠা-পায়েস তৈরির আয়োজন। নদীর তীরে বসে গ্রামীণ মেলা। নৌকাবাইচ উপভোগের পাশাপাশি মেলায় বিভিন্ন প্রসাধনী, খেলনা ও বাহারি পণ্যের দোকানে ভিড় করেন নারী ও শিশুরা।
আয়োজনটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান কাবুল।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচকে ঘিরে মহম্মদপুরে সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলা। গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উৎসবের এক অনন্য আবহে মধুমতী নদীর দুই পাড় হয়ে ওঠে উৎসবপ্রেমী মানুষের মিলনস্থল।
Thedailyglobalnation