মাগুরায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত স্বর্ণের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে (৩৬) গুলি করে হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় ডাকাতি ও হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুলি ও খালি কার্তুজ, একটি প্রাইভেটকার এবং দুটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে পুলিশ পরিচয়ে ওঠে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল। তারা স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে পাশের হলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, মো. ফরিদ মণ্ডল, মো. মিল্টন মোল্যা, মারুফা আক্তার, মো. গোলাম জাহিদ ও মো. মারুফ হোসেন। তাঁদের কাছ থেকে ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি তেজাবি স্বর্ণের বার, একটি টয়োটা ভিটজ প্রাইভেটকার এবং দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ডাকাতির স্বর্ণ ভাগাভাগি নিয়ে জড়িতদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারের ভেতরে মোটরসাইকেলে এসে শাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিনাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অভিযান চালিয়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা হলেন রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম, অনিমেষ মজুমদার, মো. মারুফ হোসেন, মো. গোলাম জাহিদ ও বশির আলী। তাঁদের কাছ থেকে ৫১ দশমিক ৯ ভরি ওজনের পাঁচটি স্বর্ণের বার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তাজা বুলেট ও খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, দুটি মামলায় মোট ৭১৬ দশমিক ৪৬ গ্রাম বা ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে মো. গোলাম জাহিদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম (সেবা)-এর দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
Thedailyglobalnation