তবে মিসবাহর দাবি, তাঁর সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও ব্যবসায়িক ক্ষয়ক্ষতি করতে এটি একটি সুসংগঠিত ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হুমায়রা জান্নাত (উর্ফে নাইমা), প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী ইমরান আল হাসান এবং আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, মিসবাহর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে উঠে আসা বিভিন্ন অভিযোগও সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।
মিসবাহর পক্ষ থেকে প্রদান করা নথিপত্র, বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য এবং ডিজিটাল কনটেন্ট পর্যালোচনা করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তরহীন প্রশ্ন সামনে এসেছে।
দাম্পত্য বিরোধ ও পাল্টা অভিযোগ
মিসবাহর দেওয়া তথ্য মতে, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হুমায়রা জান্নাত ওরফে নাইমা ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট তাঁর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যান। তিনি দাবি করেন, নাইমা চলে যাওয়ার আগে তাদের সম্পর্কে তেমন কোনো বড় ধরনের সংকট ছিল না, তবে এরপর থেকে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
মিসবাহ অভিযোগ করেন, তাঁর প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী ইমরান আল হাসানের সঙ্গে নাইমার পরকীয়া সম্পর্কের কারণেই তিনি বাড়ি ছেড়েছেন। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় এ বিষয়ে নাইমার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিসবাহ আরও দাবি করেন, এই সম্পর্কের বিষয়টি আড়াল করতে এবং তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, একাধিক বিয়ে ও অন্যান্য নারীদের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে মিথ্যা গল্প ছড়ানো হচ্ছে।
নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে এক রোহিঙ্গা নারী
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে এক রোহিঙ্গা নারীকে ঘিরে, যিনি পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নিজেকে মিসবাহর ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছিলেন। মিসবাহ এই দাবিটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিহিত করেছেন।
তবে পরবর্তীতে মিসবাহর পক্ষ থেকে ওই নারীর অপর একটি বক্তব্য সামনে আনা হয়। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এনে তিন দিন আটকে রাখা হয়েছিল এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মিসবাহর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
মিসবাহর পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, নাইমা, ইমরান আল হাসান, এস. এম. সাইফুল ইসলাম, আহমেদ নাইম এবং ড. ইব্রাহিম খলিল এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সত্যতা যাচাই প্রয়োজন। ওই নারীকে কোথায় রাখা হয়েছিল, কে বা কারা তাঁকে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করেছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তিনি আগের ও পরের বক্তব্যগুলো দিয়েছেন—তা নিশ্চিত হওয়াই আসল ঘটনা উদঘাটনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
প্র্যাঙ্ক ভিডিও নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিকৃতি?
উক্ত রোহিঙ্গা নারী তাঁর পরবর্তী বক্তব্যে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার আগেই নাইমার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল এবং সেই পরিচয়ের সূত্রে ঢাকায় আসার পথে একটি প্র্যাঙ্ক (কৌতুকপূর্ণ) ভিডিও রেকর্ড করা হয়।
তাঁর দাবি অনুযায়ী, ভিডিওটি পরবর্তীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়েছে, যা এর আসল উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
ভিডিওটির সত্যতা, মূল প্রেক্ষাপট এবং এটি প্রকাশের সময়ানুক্রমিক বিষয়টি স্বতন্ত্র পরীক্ষার দাবি রাখে।
অমীমাংসিত প্রশ্নসমূহ
মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে এখনও অনেক প্রশ্ন উত্তরহীন রয়ে গেছে। একাধিক বিয়ের যে অভিযোগ উঠেছে, তার পেছনে কি কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ রয়েছে? রোহিঙ্গা নারীটিকে কি সত্যি তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয়েছিল? চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় তাঁর আসার ব্যবস্থা কে করেছিল এবং পরবর্তীতে কেনই বা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এল?
একই সাথে, একটি সুসংগঠিত ষ ষড়যন্ত্রের বিষয়ে মিসবাহ যে দাবি করছেন, তার কোনো শক্ত ভিত্তি রয়েছে কি না—সেটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সব পক্ষের বক্তব্য বস্তুনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণের জন্য একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণের পরীক্ষা এবং আইনি নথিপত্রের পর্যালোচনার প্রয়োজন।
স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মিসবাহর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কিংবা তাঁর দেওয়া পাল্টা অভিযোগ—কোনোটিকেই চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। উভয় পক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিগুলোর পেছনে আসল সত্য বের করা এবং প্রমাণ সাপেক্ষে অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাই এখন মূল বিষয়।
Thedailyglobalnation